রাজধানী ঢাকার বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার বেশি। কিছু সময় আগে যেখানে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা বৃদ্ধি পেয়ে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় পৌঁছেছে। এর আগে তিন দিন আগেও দাম ছিল একই রেঞ্জে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালেই রাজশাহীর সাহেববাজার, ভদ্রা ও লক্ষ্মীপুর বাজারে এই পরিস্থিতি দেখা গেছে।
এদিকে রাজশাহীর বাজারে এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে পেঁয়াজের। এই সময়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৪০ থেকে ৪৫ টাকা বেড়ে এখন ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি আলু ও ডিমের দামও সামান্য বেড়েছে। তবে সবজির দাম স্থিতিশীল থাকায় ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি হয়েছে।
বাজারে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে পেঁয়াজের মূল্য ছিল ৬০-৬৫ টাকা, যা এখন বেড়ে হয়েছে ১০৫-১১০ টাকা। আলুর দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়ে ২০ টাকায় উঠেছে। ডিমের হালি প্রতি দাম ৩ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আগে যা ছিল ৪২-৪৫ টাকা।
পাইকারি বাজারে বিভিন্ন মানের দেশি পেঁয়াজের মূল্য বর্তমানে ৯০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত শুক্র ও শনিবার বিক্রি হচ্ছিল ৭২ থেকে ৮৫ টাকায়।
আড়তদাররা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বাড়ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আমদানি কম হওয়া এবং পেঁয়াজের মৌসুমের শেষের কারণে মজুতের পরিমাণ কমে গেছে, ফলে মোকামে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা ভারতের থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
অন্যদিকে বেশিরভাগ সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গত দুই থেকে তিন সপ্তাহে যেখানে বেশিরভাগ সবজির দাম ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে, এখন তা কমে এসে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশে রবি মৌসুম অক্টোবরের মাঝামাঝি শুরু হয়। পাবনা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলায় পেঁয়াজের চারা রোপণের কাজ কিছুটা দেরিতে শুরু হওয়ায় নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে আরও কিছু সময় লাগবে। এই পরিস্থিতিতে সময়মতো আমদানি অনুমোদন না পাওয়া গেলে বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

0 মন্তব্যসমূহ